বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
ইউনিভার্সেল নিউজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন দুই এমপি। সোমবার (১৩ অক্টোবর) ইসরায়েল সফররত ট্রাম্প দেশটির পার্লামেন্টে ‘নেসেট’-এ ভাষণ দিতে গেলে দুই এমপি ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিন!’ লেখা সংবলিত একটি কাগজ উঁচিয়ে ধরেছিলেন। এতে করে ট্রাম্পের বক্তৃতা সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই দুই এমপিকে পার্লামেন্ট ভবন থেকে দ্রুত বের করে নিয়ে যান। তাঁদের হাতে থাকা কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এই দুই এমপির নাম হলো আয়মান আদিল ওদেহ ও ওফের কাসিফ। দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, ওদেহ ‘হাদাশ-তাল’ পার্টির চেয়ারম্যান। এটি মূলত আরব-ইসরায়েলিদের একটি দল। আর কাসিফ দলটির একমাত্র ইহুদি এমপি।
মিডল ইস্ট আই জানায়, পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে এক পোস্টে ওদেহ লিখেছেন, ‘তাদের কাছে আমার একটি মাত্রা অপরাধ। আমি এমন একটি সহজ দাবি তুলেছি, যা সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেনে নিয়েছে। তা হলো— ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। এই সহজ সত্য স্বীকার করতে বলায় আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
কাসিফও পার্লামেন্টে একই কাগজ উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরে তিনি এক্সে এক পোস্ট লিখেছেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য আসিনি। আমরা ন্যায়ের দাবি দাবি নিয়ে এসেছিলাম। অবরোধ ও বর্ণবাদী শাসনের অবসান এবং ইসরায়েলের পাশে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত শান্তি সম্ভব। দখলদারি হতে অস্বীকার কর! রক্তপাতে আগ্রহী সরকারকে প্রতিহত কর!’
২০২৪ সালের নভেম্বরে আইমান ওদেহ নেসেটে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘সিরিয়াল কিলার অব পিস’ (শান্তি বিনাশকারী) বলে অভিযুক্ত করেন।
১৯৭৫ সালে হাইফায় এক আরব মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া রাজনীতিক আইমান ওদেহ নিজেকে ‘নাস্তিক’ হিসেবে পরিচয় দেন। আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ আইমান নিজেকে ধর্ম ও জাতিসত্তার সীমানা অতিক্রম করেছেন বলে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে বন্দী বিনিময় চুক্তির অধীনে মুক্তি পাওয়া অনেক ফিলিস্তিনি বন্দীর পরিবার বলছে, বহু প্রতীক্ষিত এই মুক্তি তাঁদের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও কষ্টের। কারণ, তাঁরা জানতে পেরেছেন, তাঁদের প্রিয়জনদের তৃতীয় কোনো দেশে নির্বাসিত করা হবে।
ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সোমবার (১৩ অক্টোবর) বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবে মুক্তি পাওয়া অন্তত ১৫৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে ইসরায়েল নির্বাসনে যেতে বাধ্য করবে।
যাঁদের নির্বাসিত করা হচ্ছে, তাঁরা ইসরায়েলের মুক্তি দেওয়া ফিলিস্তিনের বৃহত্তর একটি দলের অংশ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন ইসরায়েলি কারাগারে বন্দী ২৫০ এবং গত দুই বছরে গাজা থেকে আটক প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি। জাতিসংঘের মতে, এঁদের মধ্যে অনেককে ‘গুম’ করা হয়েছিল।
গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী আজ সোমবার ২০ জন ইসরায়েলি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে।
মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের কোথায় পাঠানো হবে, সে সম্পর্কে ইসরায়েল এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে গত জানুয়ারিতে বন্দী মুক্তির সময় কয়েক ডজন বন্দীকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ যেমন তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও তুরস্কে নির্বাসিত করা হয়েছিল।
পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, এই জোরপূর্বক নির্বাসন মুক্তি পাওয়া বন্দীদের নাগরিকত্বের অধিকারকে লঙ্ঘন করছে। এটি বন্দী বিনিময় চুক্তির ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতির প্রমাণ।
দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের পাবলিক পলিসির সহযোগী অধ্যাপক তামার কারমুত আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ যে অবৈধ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধের সময় আমার কাছে প্রায় সময় অস্ত্র সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছেন। তিনি কখনো কখনো এমন কিছু ‘অস্ত্রের জন্যও অনুরোধ করেছিলেন, যার নামও আমি কখনো শুনিনি।’ আজ ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু এই মন্তব্য করেন।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েলকে প্রায় ২ হাজার ১৭০ কোটি ডলার সমমূল্যের সামরিক সহায়তা দিয়েছেন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা এবং সামরিক অভিযান বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেছে পেন্টাগন।
দুই বছরের গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলে হামলায় গাজায় অন্তত ৬৭ হাজার ৮৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ১০৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ২০ হাজারের বেশি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছিল। হামাস জিম্মি করে গাজায় নিয়ে এসেছিল প্রায় ২০০ জনকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যদি কোনো শান্তি চুক্তি সম্ভব হয়, তবে তা দারুণ হবে। ‘ইরানের জনগণ বাঁচতে চায়’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছে। পশ্চিমাদের দাবি, ইরান পারমাণবিক বোমা বানানোর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। কিন্তু ইরান বারবার এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, পারমাণবিক বোমা তৈরির কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই। তারা অন্যান্য দেশের মতো শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে চায়।
সূত্র : আলজাজিরা।
২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল ইরান। এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ), যা সংক্ষেপে ইরান পরমাণু চুক্তি নামে পরিচিত। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নজরদারি করার জন্য এই চুক্তি করা হয়েছিল, যাতে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
চুক্তি করার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু ২০১৮ সালে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি থেকে একতরফা বের হয়ে যায়। ফলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতায় এসে চুক্তিটি নবায়নের জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু সফল হননি। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে তেহরানের সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তির চেষ্টা করছেন। দেশ দুটির কর্মকর্তাদের মধ্যে ওমান ও ইতালিতে কয়েক দফায় অপ্রত্যক্ষ বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু গত জুনে ইসরায়েলের হামলার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানে বিমান হামলা চালায়। মূলত দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এরপর থেকে ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে অপ্রত্যক্ষ আলোচনা বন্ধ রয়েছে।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply